প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬


শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আমিন রতনকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। এ ঘটনায় তার ডান হাত ও পায়ের গোড়ালী ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক শেখ নুরুল আমীন রতন ও তার পরিবার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পূর্ব পাশে ‘তিন দোকান” এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শেখ নুরুল আমীন রতন দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্থানীয় সূত্র ও আহত প্রধান শিক্ষক শেখ নুরুল আমীন রতন জানান, স্কুলের উন্নয়ন কাজ তদারকি শেষে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি নিক্সন খান ও ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান সিকদারের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একটি দল তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে তাকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

নুরুল আমিন রতনের ছেলে হিমেল অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে মারধর করা হয়েছে। লাঠির আঘাতে তার হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

তবে অভিযুক্ত নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি নিক্সন খান ও ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় তারা নড়িয়ায় ছিলেন না এবং সিডিউল সংগ্রহের কাজে বাইরে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ রয়েল মাঝি বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। তদন্ত করে দেখা হবে। আমাদের দলের কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নড়িয়া থানার ওসি মো. বাহার মিয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।