প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২৬


আওয়ামী লীগের বিচার কিভাবে করতে চাইছে সরকার।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার’ করা হবে বলে জানিয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি বলেছেন, “সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আছে, আইসিটি অ্যাক্টে আছে রাজনৈতিক দলের বিচার করা যাবে। সুতরাং অপেক্ষা করুন”।

মি. আহমদের শনিবার দেওয়া এ ঘোষণা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই আজ রোববার ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আইনে বিচারের সুযোগ আছে, তবে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি-না সে বিষয়ে তদন্ত সংস্থা কাজ করছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গটি সামনে এনেছিলেন তখনকার প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যসহ আওয়ামী লীগ বিরোধী কিছু রাজনৈতিক দল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই ২০২৫ সালের ১২ই মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে তাতে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না।

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছিল। ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে হওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটিতে কিছু সংশোধনী এনে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ হিসেবে জাতীয় সংসদে পাশ করা হয়েছে।

বিলটি পাশের সময় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, “বিলটি হলো একটি গণত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত সংশোধনী। আগের যে আইন ছিল সেটা সংশোধনের জন্য। ওনারা (জামায়াত) ও এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে একটা আন্দোলন করেছিলেন। সে প্রেক্ষিতে মোটামুটি একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সে প্রেক্ষিতে তাদের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশনে তাদের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত হয়ে আছে। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইসিটি অ্যাক্টে সংগঠনটির বিচারের জন্য সে আইনও সংশোধন করা হয়েছে”।

এখন তিনি আবার আওয়ামী লীগের বিচারের প্রসঙ্গটি সামনে আনায় সরকার কিভাবে বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হতে চাইছে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে।