স্টাফ রিপোর্টার স্টাফ রিপোর্টার
রিপোর্টার
দুর্ঘটনায় আহত আইনজীবীকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল।

⋅কুমিল্লায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাস দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরানকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে করা আবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট বাসটি (ঢাকা মেট্রো বি-১২-২৮৮১) চলাচলের সব রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল, সড়কের নির্ধারিত গতিবিধি মেনে চলতে পদক্ষেপ গ্রহণ, পরিবহনের দৃশ্যমান স্থানে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট স্থাপন ও এ বিষয়ে কিউআর কোড স্থাপন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতেও রুল জারি করা হয়েছে।
পাশাপাশি রুলে সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সমন্বয়ে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, সড়কে বেপরোয়া গতি কমাতে প্রতিটি পরিবহনের ভেতরে-বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন এবং সিঙ্গেল চেসিসে ডাবল ডেকর বাসে রূপান্তর করার বিষয়ে বিবাদীদের ব্যর্থতা সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (২৬ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুলসহ নির্দেশনা জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।
গত মে মাসে এ রিট করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন। রিট আবেদনে ওই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর দৈনিক পত্রিকায় ‘আরামের আড়ালে মারণফাঁদ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ সংযুক্ত করা হয়।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের মধ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইফাদ মোটরসের মালিকানাধীন সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস রাত ২টা ৫ মিনিটে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার থানার বসন্তপুরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে পার্শ্ববর্তী জমিতে আঁচড়ে পড়ে। ওই দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।
দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মুহূর্তেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভয়ে যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকলে পুলিশ ও যাত্রীদের সহায়তায় সবাইকে বাসটি থেকে বের করে আনা হয়। ওই দুর্ঘটনায় রিটকারী আইনজীবীর বাম পাশের পাঁজরের পাঁচটি হাড়ে ফ্রাকচারসহ মানসিক ও শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয়। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে থেকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। এতে করে রিটকারী আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের প্রতি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে সে নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়।

