প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬


ডামি নির্বাচনের প্রার্থী সারওয়াত শুক্লার ক্রীড়াঙ্গনে উত্থান, উঠছে নানা প্রশ্ন।

গত ১৭ বছর যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, তাদের অনেকেই এখনো কোনো মূল্যায়ন বা সুযোগ-সুবিধা পাননি। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এখন ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ক্রীড়াঙ্গনে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন জোরদারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে, সেখানে সদস্য করা হয়েছে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লাকে। এর আগে তিনি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্বও পেয়েছেন।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যেখানে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ এখনো উপেক্ষিত, সেখানে আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন?

ডামি নির্বাচনের প্রার্থী

রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি অনেকটা ওপেন সিক্রেট যে, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং তার স্বামী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়েই ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি অবস্থান করেছেন।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচন ঠেকাতে দলটির নেতাকর্মীরা তখন মাঠে আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে প্রার্থী হন সারওয়াত শুক্লা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময় আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা চলছিল, সেখানে সারওয়াত শুক্লার মতো প্রার্থীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

মেয়ের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সে সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক এবং সারওয়াত শুক্লার মা রাবেয়া সিরাজকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিষয়টি দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সারওয়াত শুক্লার অবস্থানের দূরত্বও স্পষ্ট করে।

৫ আগস্টের পর বদলে যায় দৃশ্যপট

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন খাতে আওয়ামী আমলের প্রভাবশালীদের সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই পরিবর্তনের মধ্যেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন কিছু ব্যক্তি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে নিজের পুরোনো এলিট যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে পুনর্বাসিত হন সারওয়াত শুক্লা।

প্রথমে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। এরপর চলতি জুন মাসের শুরুতে ক্রীড়াঙ্গনে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সুরক্ষা, অধিকার এবং কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিতেও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। আর এতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।