প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬


সংসদে ভবনের সামনে অবস্থান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের

  1. শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধকারী এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্যারিকেড অতিক্রম করে তারা সংসদ ভবনের সামনে বটতলা গেইটে পৌঁছান।

শিক্ষার্থীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দুই পাশেই আটকে রেখেছেন। ফলে আসাদগেইট থেকে খামারবাড়ির দিকে এবং খামার বাড়ি থেকে আসাদ গেইট অভিমুখে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদের বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা পলাশী হয়ে হয়ে শিক্ষা বোর্ডের দিকে রওনা হন।

আন্দোলনকারীরা দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা। এরপর তারা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ফিরে আবারও সড়ক আটকিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিন উত্তরা বিএনএস টাওয়ারের সামনে দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শুরু হওয়া সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এ তথ্য জানিয়ে ট্রাফিক গুলশান বিভাগ সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বলেছে, ইসিবি চত্বরের আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন।

একই দাবিতে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে—

• দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।

• ‎বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

• আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে।

কী কারণে আন্দোলন

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও বিকল্প উপায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাসা থেকে বের হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক কথোপকথন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আন্দোলনকারীরা।

ওই কথোপকথনে অধস্তন পুরুষ কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আমি এভাবে মিটিংয়ে বলতেছিলাম যে, এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি, কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে, আমার মেয়ের তাই হয়। তো আমি বললাম যে, দৌড়-লাফ ঝাঁপ দিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে, বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পানি পড়বে, পরের দিন ঠিকঠাক পরীক্ষা দিতে পারবে না। তারপরে আবার ওয়েদার ব্রডকাস্টিং সেন্টারে ডিজিকে কল করল। তারা বলল যে কালকে বৃষ্টি হবে না, আজকে রাতেই শেষ।”

শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ তুলে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে—শিক্ষামন্ত্রী’, ‘দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘জ্বালো রে জ্বালো—আগুন জ্বালো’, ‘আপস না সংগ্রাম—সংগ্রাম, সংগ্রাম’।

বিএএফ শাহীন কলেজের এক পরীক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে। উনি অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ। উনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।

“পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে যখন গতকাল সমালোচনা চলছে, তখন একটা ভিডিওতে দেখলাম উনি টেলিফোনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলে সম্বোধন করছেন। উনি কেন আমাদের ফার্মের মুরগি বলবেন? উনার এ বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলননের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।