প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২৬


শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কী হবে?

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি ভারতীয় একটি গণমাধ্যম শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে এ বছরই তার বাংলাদেশে ফেরার খবর দেওয়ার পরই এ বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে চর্চিত হয়।

চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা। মামলায় পলাতক হিসেবে তার বিচার করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, “আইনগত অবশ্যই কোনো বাধা নেই। উনি (শেখ হাসিনা) ফিরবেন, ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। আমাদের নরমাল সিআরপিসির যে প্রসিজিউর সেটিই উনি ফলো করবেন।”

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে আসতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তিনি জানান, আইনের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা পলাতক এবং তিনি কোন দেশে আছেন সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনাল জানে না। তবে, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানতে পারেন।

“ভারতের সাথে আমাদের এক্সট্রাডিশন ট্রিটি আছে এবং বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে আনার সুযোগ আছে। অথবা তিনি নিজেও আসতে পারেন,” বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি এটাও বলছিলেন, যে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনিভাবে অভিযোগ মোকাবিলা করতে পারেন।

এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, শেখ হাসিনার ফিরে আসা বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, ফলে তার বাংলাদেশে আসায় বাধা আছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমি মনে করি, তার দেশে আসতে বাধা আছে। বাধাটা হলো পাসপোর্ট। উনি যখন গেছেন তখন ওনার কাছে রেড পাসপোর্ট ছিল। ধরে নেই, উনি সেটা নিয়ে গেছেন।

কিন্তু সরকার তো সেই রেড পাসপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে পরবর্তীকালে। তো ওনার কাছে কোনো ভ্যালিড পাসপোর্ট নাই এখন।”

আবার, যেহেতু সাজার রায় আছে, ফলে শেখ হাসিনা ফিরে এলে সে বিষয়ে পরবর্তি পদক্ষেপ কী হবে- সেই প্রশ্নও রয়েছে। তবে তিনি যখনও বাংলাদেশে ফিরে আসেন না কেন, সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল করার সুযোগ আছে বলেও জানান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।

রায়ের এক মাসের মধ্যে আপিলের বিধান সবসময় অনুসরণ করা হয় না, ১০-১৫ বছর পরেও আপিল করার উদাহরণ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি সবসময় এটা স্ট্রিক্টলি ফলো করা হয় না। বিশেষত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে আইনের ব্যাখ্যা বদলে যায়। সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু আপিল গ্রহণ করা হবে কি হবে না সেটি আদালতের ওপর নির্ভর করবে।”