তাইয়্যেবা জাহান, জাককানইবি প্রতিনিধি
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি)। ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শোক ও শ্রদ্ধার আবহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চুরুলিয়া মঞ্চে’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসের সূচনা ঘটে। ২১শে ফেব্রুয়ারি শনিবারের প্রথম প্রহরে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক সমিতি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শনিবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন উপাচার্য এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন ট্রেজারার।
চুরুলিয়া মঞ্চে আয়োজিত মূল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদের শেকড়ে আঘাত করতে চেয়েছিল। তৎকালীন পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৭.২ শতাংশ মানুষের ভাষা উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। এই ভাষাগত বৈষম্য ছিল আমাদের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার একটি নীল নকশা।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রূপ নেয় এবং দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৫৬ সালে সংবিধানের মাধ্যমে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এবং ২০০৮ সালে জাতিসংঘের স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলা ভাষা বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।
আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. তুষার কান্তি সাহা এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। দিনটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক শোকাতুর ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।